ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। আমার নানির ভাই অনেক বড় একজন ডাক্তার। আমার বাবা-মা উভয়ের দিকের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে তিনিই প্রথম উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। হয়তো পরিবারের ইচ্ছা আর তার সফলতার গল্প শুনতে শুনতে আমার মধ্যেও ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা জন্মেছিল।
মোটামুটি পড়ালেখায় ভালো থাকায় এসএসসি পরীক্ষার পর নটরডেম কলেজে চান্স হয়ে গেল। আমার বুয়েট জয়ের গল্পটা এরপর থেকেই শুরু।
নটরডেম কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই চাইতো বুয়েটে পড়তে। তাদের মুখে বুয়েটের নাম শুনতে শুনতে আমিও কিছুটা আগ্রহী হলাম বুয়েটে পড়ার জন্য। কিন্তু এতদিনের মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছাকে দমাতে পারলাম না এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত।
এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত মেডিকেলে পড়বো সেই ইচ্ছা নিয়েই এগুচ্ছিলাম।
এইচএসসি পরীক্ষার পর হঠাত মনের ইচ্ছা হলো বুয়েটে পড়ার। অনলাইনের একটা প্লাটফর্মে মেডিকেলের একটা কোর্সও কিনা ছিল। সেই কোর্সের ২-১টা ক্লাস করেছিলাম হয়তো।
এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকেই প্রথম শুরু করলাম ইঞ্জিনিয়ারিং প্রস্তুতি নেওয়া। এমনকি এইচএসসির আগে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নব্যাংক’ ধরেও দেখিনি। এরপর ACS এর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হলাম। অফলাইনে ভর্তি হলাম Achieve Engineering Exam Batch এ। ACS এর প্রথম দিকের ক্লাস গুলো করলেও শীঘ্রই বুঝতে পারলাম ১টা অধ্যায়ের উপর ২০ঘন্টার ক্লাস করার কোনো মানে নেই। তাই সব ক্লাস আর করলাম না, শুধুমাত্র লেকচার স্লাইডগুলোই দেখতাম , কঠিন ম্যাথগুলো স্কিপ করতাম।
আমার পড়ার মেইন ম্যাটেরিয়ালস গুলো ছিলো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নব্যাংক, কনসেপ্ট বুক আর টেক্সট বুক। এর বাইরের কোনো বইয়ের একটা অক্ষরও পড়ে দেখিনি।
প্রথমের দিকের উইকলি পরীক্ষাগুলোতে খুব একটা ভালো মার্কস না আসলেও হতাশ হইনি। ধীরে ধীরে উন্নতি করার চেষ্টা করতাম। একটা পরীক্ষা খারাপ হলে পরের পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অদম্য চেষ্টা নিয়ে নেমে পড়তাম। এমনও অনেক রাত গেছে পড়তে পড়তে ফজরের আযান দিয়ে দিয়েছে।
এরপর নামাজের পর ২-১ ঘন্টা ঘুমিয়ে Achieve এ পরীক্ষা দিতে চলে যেতাম। এডমিশন টাইমে আমি না হলেও ৬-৭ বার প্রশ্নব্যাংক সল্ভ করেছি। আমার আশা ছিল বুয়েটে না হলেও অন্য কোনো একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে চান্স হয়ে যাবে।
ধীরে ধীরে এডমিশন পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসলো। আমি প্রথম পরীক্ষা দিয়েছিলাম KUET এ। সারারাত বাস ভ্রমণ করে পরীক্ষা দিয়ে পরের দিনই আবার ফিরে এসেছিলাম। KUET এর পরীক্ষা খুব একটা আশানুরূপ হয়নি, তবুও চান্স হয়ে যাবে বুঝতে পেরেছিলাম। কিছুদিন পর ফলাফল প্রকাশ করলে দেখলাম আমার Rank আসলো 1088। চান্স পেয়ে খুব খুশি হলেও বুঝতে পারলাম বুয়েটে চান্স পেতে হলে আরো ভালো করতে হবে।
এরপর দেখতে দেখতে BUET ভর্তি পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসলো। প্রিলিতে সহজেই পার হয়ে গেলাম। আমি জানতাম আসল পরীক্ষা হলো লিখিত পরীক্ষা। এখানে ভালো না করতে পারলে BUET স্বপ্ন হিসেবেই থেকে যাবে।
লিখিত পরীক্ষার দিন খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস ছিলো, যদি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে আসতে পারি অন্তত একটা সিট পেয়ে যাব। লিখিত পরীক্ষা মোটামুটি চলার মতো হলো।
পরীক্ষার পরই মনে হচ্ছিলো একটা সিট হয়ে যাবে। এর ২দিন পরই ছিলো DU এর ভর্তি পরীক্ষা, ফর্ম তুললেও তাই সেই পরীক্ষায় আমি আর যাইনি।
বুয়েটের ফলাফল প্রকাশের আগেই MIST ভর্তি পরীক্ষা ছিল। এই পরীক্ষাটাও বেশ ভালো হলো। ভেবেছিলাম 1st হবো। এই ৩টি ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া আমি আর কোথাও পরীক্ষা দিতে যাইনি।
KUET এর ফলাফল আগেই প্রকাশ হয়ে গিয়েছিল। অপেক্ষা ছিল BUET এর ফলাফল এর। অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে একদিন সন্ধ্যার পর ফলাফল প্রকাশিত হলো। ফলাফল দেখে আমার খুশির সীমার অন্ত রইলো না। আমার Rank এসেছে 594. নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস হচ্ছিলো না। এটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এরকম দিন আমার জীবনে আর কবে আসবে, আমি জানি না।
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তার জন্য আমি তার প্রতি চির কৃতজ্ঞ।
আমার বাবা-মা সবসময়ই আমাকে সাপোর্ট করেছেন। তাদের অবদান আমি কখনোই ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
My Admission results:
KUET: 1088th
BUET: 594th (ME)
MIST: 3rd (Military ward)
Alhamdulillah for everything.
Author: Shakib Al Hasan
BUET’24 Batch
Ex- NDC
Ex- Adamjee Cantonment Public School


