এলপিজি সংকট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। গ্রাহকদের ভোগান্তি নিয়ে নিউজ হয়েছে। জ্বালানি উপদেষ্টা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। মন্ত্রণালয় থেকে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর জন্য কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে, দ্রুতই এলপিজি সংকট কাটার সম্ভাবনা নাই।
প্রকৃত সমস্যাটা আসলে কোথায়? মূলত আঙুল উঠেছে এলপিজি আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের দিকে। আসলেই শুধু সিন্ডিকেট এজন্য দায়ী। বিষয়টা তেমন না। বাংলাদেশের এলপিজি মার্কেটটা ওলিগোপলি (সীমিত সংখ্যক বিক্রেতা) বাজার। তাই প্রচ্ছন্ন সিন্ডিকেট ছিল, আছে।
এ সিন্ডিকেটের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের চেয়ে এমনকি এশিয়ারও বেশকিছু দেশের চেয়েও বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি। তারপরও কেন হঠাৎ সংকট দেখা দিল। কারণটা অন্যত্র যা নিয়ে তেমন কোন আলোচনাই নাই। এমনকি উপদেষ্টা নিজেও হয়তো খোঁজ রাখেন না বিষয়টি নিয়ে।
সাম্প্রতিক এলপিজি সংকটের পেছনের মূল কারণটা হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সরাসরি আমাদের দেশের ওপর না পড়লেও পরোক্ষভাবে এটি পড়েছে। বর্তমানে বিশ্বে এলপিজি পরিবহনকারী জাহাজের সংখ্যা খুবই সীমিত। যেগুলো আছে তা বিভিন্ন দেশ কিংবা কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ।
আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোর সাথে যেসব জাহাজ (মাদার ভেসেল) এলপি গ্যাস পরিবহণে চুক্তিবদ্ধ ছিল, সেগুলো বেশিরভাগ ইরান কিংবা রাশিয়ান এলপি গ্যাস থার্ড পার্টির মাধ্যমে ক্রয় করে ট্রান্সশিপমেন্ট হয়ে তারপর বাংলাদেশে আসতো। আমদানিকারক কোম্পানিগুলো দাম ও খরচ কমানোর জন্য এটি করে আসতো।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, রাশিয়ার পণ্য পরিবহন ও মালিকানায় থাকা জাহাজগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ে, যার কারণে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো সহসাই এলপি গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। মুলত সমস্যা এই জায়গায়।
দুই-তিনটি ছাড়া বাকি সব কোম্পানি বর্তমানে বন্ধ। তাদের স্টোরেজে আমদানি করা গ্যাস লিকুইড শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আর বাকি কোম্পানিগুলোতে যা আছে তা ডিস্ট্রিবিউটররা সহজে পাচ্ছে না, যা পাচ্ছে তা রেশনিং আকারে।
এই রেশনিং গ্যাসগুলো পেতে একটি এলপি গ্যাস পরিবহনকারী গাড়িকে কয়েকদিন কোম্পানির প্লান্টে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে, যার কারণে পরিবহণ খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। তার চেয়েও বড় কথা খুচরা ব্যবসায়ীরা ঠিক মতো গ্যাস না পাওয়ার কারণে দাম অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে।
>> খুচরা পর্যায়ে কেন দাম বাড়ছে তা নিয়ে লিখবো পরের কিস্তিতে।
– Ismail Ali

