সম্ভাব্য পোস্টিং : হেড অফিস সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার নলকা নামক স্থানে। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরত্বে, ঢাকা-রংপুর হাইওয়ের পাশেই অবস্থিত। এর বাইরে আঞ্চলিক কার্যালয় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহি, বাঘাবাড়ি, ঈশ্বরদী, পাবনা (রংপুর অফিস থাকলেও সেটা এখনো ফাংশনাল না)। এডমিনের সবারই ইনিশিয়াল পোস্টিং হেড অফিসে হবে।

ইনফ্যাক্ট এই ক্যাডার সারাজীবন হেড অফিসেই থাকতে হয় (পানিশমেন্ট ট্রান্সফার হিসেবে আপনার বাড়ি যেদিকে, তার উল্টাদিকের এলাকায় পোস্টিং দিতে পারে 😉)। ফিন্যান্স আর টেকনিক্যাল ক্যাডারদের শুরুতেই হেড অফিসের পাশাপাশি রিজিওনাল অফিসগুলোতেও পোস্টিং হয়। এদের পোস্টিং রোটেট করতে থাকে।

লাঞ্চ ভাতা → প্রতি কর্মদিবসের জন্য ১৫০ টাকা। প্রথম ৬ মাস শিক্ষানবিশকালে এই ভাতা ফ্রোজেন থাকে। পার্মানেন্ট হলে এরপর একবারে বকেয়া লাঞ্চভাতা সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
গ্যাস ভাতা → ২ বার্নারের সমান, ১০৮০ টাকা প্রতি মাস।

এক্স গ্রেশিয়া → বছরখানেক আগেও ৪-৫ টা (বেসিকের সমান) পর্যন্ত চালু ছিল। গত অর্থবছরে ২ বেসিকের সমান এক্স-গ্রেসিয়া পাওয়া গিয়েছে। এর বাইরেও প্রায় প্রতিবছর প্রায় ১.৫-২ বেসিক সমান ইনসেন্টিভ বোনাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রফিট শেয়ারিং → পিজিসিএল তার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিবছর প্রফিটেবল থাকে। গত কিছু বছরে প্রফিটের অঙ্ক ৩-৫ লাখের ঘরে ওঠানামা করেছে। পিজিসিএল এর বাল্ক কাস্টমার হলো NWPGCL, কোম্পানির মোট রেভিনিউ-এর প্রায় ৮০%+ জেনারেট হয় এখান থেকে। ওদের কাছে যত বেশি গ্যাস বিক্রি করা যায়, তত লাভের সম্ভাবনা থাকে। বর্তমানে গ্যাসের প্রাপ্যতা কম বলে প্রফিট কিছুটা কমতে পারে।

হোম লোন/হাউজ লোন → চাকরিকাল অন্তত ৮ বছর হওয়ার পর হোমলোনের জন্য আবেদন করা যায়। এখানে ২ কিস্তিতে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত হোম লোন পাওয়ার সুযোগ আছে। আবেদনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীর পিএফ (নিজস্ব অংশ ও কোম্পানির অংশ) এর অনুকূলে জমাকৃত অংশ এবং গ্র্যাচুইটি বাবদ প্রাপ্তব্য মোট অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী এ ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
*কোম্পানির নিজস্ব কিছু টার্মস এন্ড রেগুলেশন্স আছে।

মেডিক্যাল সুবিধা → সাধারণ সরকারি চাকরির মতই পে-স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা প্রতি মাস। এর বাইরে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কোম্পানি থেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি মাসে ৬০০ টাকার ঔষধ পেয়ে থাকেন।

ট্রান্সপোর্ট সুবিধা → ডিজিএম এবং তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির লিফটিং সুবিধা রয়েছে। সিরাজগঞ্জ শহরে আনা-নেওয়ার কাজে এই গাড়ি ব্যবহৃত হয়। এর বাইরে অফিসারদের জন্য লিফটিং বাসের (নন-এসি) ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন সকালে সিরাজগঞ্জ শহর থেকে অফিসের উদ্দেশে ছেড়ে আসে, অফিস শেষে আবার অফিসারদের নিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরে যায়।

এ ছাড়াও যারা বগুড়া বা আশেপাশের এলাকা থেকে আসেন তাদের জন্য অফিস থেকে পুরাতন হাটিকুমরুল (সিরাজগঞ্জ রোড) পর্যন্ত লিফটিং মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। সকাল ৮.৫০ নাগাদ গাড়ি হাটিকুমরুল থেকে অফিসের দিকে আসে, অফিস শেষে আবার অফিসারগণকে সেখানে পৌঁছে দিয়ে আসে। সপ্তাহে দুইদিন সকাল ১১টায় শহরে যাওয়ার জন্য অফিসের মাইক্রোবাস থাকে।

ব্যাংকিং অথবা অন্যান্য কাজের জন্য শহরে যেতে হলে সেই গাড়িতে চেপে যাওয়া যায়। লিফটিং বাস ব্যবহার বাবদ খুবই অল্প টাকা খরচ করতে হয়। টাকার অঙ্কটা ২০০-৩০০ এর মধ্যে।

কোয়ার্টার সুবিধা → পিজিসিএল-এ কোনো কোয়ার্টার সুবিধা নেই। হেড অফিসে ডরমিটরি আছে তবে সেখানে ডিজিএম-জিএম লেভেলের সিনিয়র স্যাররা থাকেন যাদের ফ্যামিলি দূরে থাকে। অন্যান্য অফিসাররা সাধারণত সিরাজগঞ্জ শহরেই থাকেন, লিফটিং বাস ব্যবহার করে অফিসে আসা-যাওয়া করেন।
পেনশন → পিজিসিএল-এ প্রথাগত পেনশন নাই। এখানে সিপিএফ ফান্ডে প্রতি মাসে ১০% বেসিক কেটে রাখা হয় এবং কোম্পানিও সমপরিমাণ অর্থ প্রতিমাসে কন্ট্রিবিউট করে। তবে অবসর গ্রহণের পরেও ১৫ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বশেষ বেসিকের ২৫% টাকা কল্যাণ তহবিল হতে দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি বৃদ্ধি করে ২০ বছর পর্যন্ত শেষ বেসিকের ৪০% করার ব্যাপারটি আলোচনাধীন রয়েছে।

প্রমোশন → এডমিনে প্রমোশন জট আছে। AM, DM লেভেলে অনেক প্রমোটি অফিসার আছেন। ২০৩৮-৪০ সালের মাঝে এই ব্যাচ রিটায়ার করবেন। ২০২২ সালের ব্যাচ আর ২০২৫ সালের ব্যাচের অফিসারদের মধ্যে বয়সের গ্যাপ বেশ অল্প। ফলে চাকরিজীবনের শেষ পর্যন্তই জট থাকবে এইটা মোটামুটি নিশ্চিত। নতুন অর্গানোগ্রাম চলে আসার কথা ২০২৭ এর শুরুতে, তখন উপরের দিকে কিছু পোস্ট বাড়তে পারে। কিন্তু নিচের দিকে জট নিরসনে এর সুফল পাওয়া যাবে না। নতুন ব্যাচের অফিসারদের ডিএম পর্যন্ত ১০ বছর+ লেগে যেতে পারে। তবে ফিন্যান্স আর ইঞ্জিনিয়ারদের প্রমোশন স্মুদ।

নতুন অর্গানোগ্রামে টেক-এর আরো ডিপার্টমেন্ট বৃদ্ধি পাবে। জিএম সংখ্যাও বাড়বে।

পোশাক ভাতা → শুরুর বছরে শীত-গ্রীষ্ম দুই সিজনের পোশাক ভাতা একসাথে মিলে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাবেন। এরপর প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন ভাতা ৩৫ হাজার টাকা আর এক বছর পরপর শীতকালীন ভাতা ২৫ হাজার টাকার মতো পাওয়া যাবে। অর্থাৎ প্রথম বছর ৬০, পরের বছর ৩৫, পরের বছর ৬০ এভাবে চলবে।

LFA → প্রতি অর্থবছরে ৭ দিনের ছুটি এবং ছুটিভোগের জন্য এক বেসিক সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা থাকবে।
আরও সুবিধা → পিজিসিএল-এ অন্যতম সুবিধা হচ্ছে ছুটি। প্রয়োজন হলেই আপনি ছুটির আবেদন করতে পারবেন। ছুটি মঞ্জুরের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ খুব আন্তরিক।

বিশেষত যারা বিসিএস ট্রাই করছেন, পরীক্ষার জন্য ছুটি পেতে আপনাকে কোনো বেগ পেতে হবে না।
এর বাইরে বলতে গেলে পিজিসিএল এর নিজস্ব মেডিকেল সেন্টার আছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ইসিজি মেশিন স্থাপিত আছে। পাশাপাশি এক্স-রে মেশিন স্থাপনের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

হেড অফিসের পুরো ক্যাম্পাস অনেক সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। ক্যাম্পাসে দুইটা ব্যাডমিন্টন কোর্ট, একটা টেবিল টেনিস রুম আছে (অফিস টাইমে খেলা নিষেধ অবশ্যই)।

অফিসের বেতন-বোনাস-বিল-ভাউচার সমস্ত অর্থনৈতিক কাজ বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। বেসিক ব্যাংকের যেকোনো শাখায় প্রায়োরিটি কাস্টমারের সুবিধা পাওয়া যায়। প্রচুর ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা থাকে। এবং রিজিওনাল অফিস থেকে হেড অফিসে আসা যাওয়ার টিএ-ডিএ ভালোই পাওয়া যায়। 😉
অসুবিধা → বসবাসের জন্য সিরাজগঞ্জ খুব একটা সুবিধাজনক জেলা না। নাগরিক সুবিধার এখানে বড়ই অভাব। ভালো বাসা পাওয়াও চ্যালেঞ্জিং। জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক বেশি।

অফিসে বসদের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে কাজ করাটা একটু চ্যালেঞ্জিং হতে পারে কারো কারো জন্য। অ্যাডমিন সেকশনে বেশিরভাগ সিনিয়রই বয়স্ক এবং প্রমোটি অফিসার। তবে সবাই খুব ফ্রেন্ডলি এবং কাজ শেখানোর ব্যাপারে আন্তরিক। ফিন্যান্স ডিভিশনে মোটামুটি চাপ থাকে, বিশেষত পেমেন্ট ডেটের আগে দিয়ে লম্বা সময় কাজ করতে হতে পারে। সারাবছরই কেনাকাটা, বিল-ভাউচার-পেমেন্ট, বাজেট ছাড়, লেজার মেইন্টেইন ইত্যাদি কাজ তো থাকেই।

ইঞ্জিনিয়ারদের অনেক সময়ই ৯-৪ টা অফিসের বাইরেও সিনিয়র স্যারদের সাথে বিভিন্ন সাইটে যেতে হয় কাজে। ওদের কিছু কিছু সেকশনে কাজের চাপ সবসময়ই বেশি থাকে। রিজিওনাল অফিসগুলোতে বেশিরভাগ কাজই হলো চিঠি ও নথি টাইপ করা, মিটার রিডিংয়ে যাওয়া, নষ্ট মিটার নিয়ে হেড অফিসে টেস্টিং & কোয়ালিটি কন্ট্রোলে দৌঁড়ানো, ঠিকাদারদের নানান রকম কাজের আবদার-চাপ সামলানো ইত্যাদি।

পোস্ট কার্টেসি: S M Shuvo
PGCL AM (Admin)
46 BCS (Admin)