বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় আর্থিক ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এগুলো মূলত জাতীয় বেতন স্কেল, করপোরেশনের নিজস্ব নীতিমালা এবং কোম্পানিভিত্তিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
পেট্রোবাংলার প্রধান প্রধান সুযোগ-সুবিধাসমূহ:
১. বেতন কাঠামো ও ইনক্রিমেন্ট

জাতীয় বেতন স্কেল: বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।(পূর্বে বেতন স্কেল ২০১৫ ছিলো)

প্রারম্ভিক ইনক্রিমেন্ট: সাধারণ পদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গ্রেডের পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ কারিগরি/পেশাগত পদে (যেমন: প্রকৌশল/চিকিৎসা) যোগদানের শুরুতেই অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট সুবিধা দেওয়া হয়।

২. বিশেষ আর্থিক ও প্রান্তিক সুবিধা (Fringe Benefits)
ক) গ্যাস ভাতা : কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট গ্যাস সুবিধা অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। গ্যাস ভাতা ২০৩৮ টাকা পাওয়া যায় প্রতি মাসের বেতনের সাথে।
খ) লাঞ্চ সাবসিডি (দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে): কর্মদিবসে নির্দিষ্ট হারে দুপুরের খাবার বা লাঞ্চ সাবসিডি ভাতা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে লাঞ্চ ভাতা প্রতিদিন ১০০ টাকা করে পাওয়া যায়।
গ) উৎসব ও অন্যান্য বোনাস: বছরের দুটি ঈদ/উৎসব বোনাস এবং পহেলা বৈশাখ ভাতার পাশাপাশি বাৎসরিক কর্মক্ষমতা ও অর্জনের ওপর ভিত্তি করে পারফরম্যান্স বোনাস, এক্স-গ্রাশিয়া (Ex-gratia), ওয়েল/ফেজ বোনাস প্রদান করা হয়। ইনসেন্টিভ আর এক্সগ্রেশিয়া এখন আর আগের মতো ৬/৭ টা পাওয়া যায় না। ভবিষ্যতে বেশি পাওয়া গেলেও যেতে পারে।

ঘ) মুনাফা বোনাস (BPPF – শুধু কোম্পানিসমূহের জন্য): পেট্রোবাংলার অধীনস্থ লাভজনক কোম্পানিগুলোতে (যেমন: বাপেক্স, তিতাস, জালালাবাদ, কর্ণফুলী, বিজিএফসিএল ইত্যাদি) বছরে অর্জিত নিট মুনাফার একটি অংশ প্রফিট বোনাস (BPPF) হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা হয়। সব থেকে বেশি মুনাফা দেয় বড়পুকুরিয়া। পেট্রোবাংলায় কোনো মুনাফা নাই কারণ এটি করপোরেশন।

৩. ঋণ সুবিধা (Loan Facilities)
ক) গৃহনির্মাণ ঋণ (Home Loan): নির্ধারিত শিক্ষানবিশকাল ও চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার( সর্বনিম্ন ৫ বছর) পর সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে( সুদের হার ৪%) পেট্রোবাংলা ৬০ লক্ষ টাকা ফ্ল্যাট ক্রয়ের ঋণ সুবিধা রয়েছে। নতুন পে স্কেল হওয়ায় এটা বাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বেতনের উপর নির্ভর করে কে কত টাকা লোন নিতে পারবে।
খ) গাড়ি ও অন্যান্য লোন: বর্তমানে গাড়ির উপর লোন বন্ধ আছে
স্থায়ী হবার পরে ২ লক্ষ টাকা মোটরসাইকেল লোনের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থায়ী হবার পরে ৬০ হাজার টাকা কম্পিউটার লোনের ব্যবস্থা রয়েছে।
এছাড়াও সুদবিহীন স্বল্প ঋণের ব্যবস্থা আছে।
তাছাড়াও প্রভিডেন্ট ফান্ড & কর্মচারী কল্যাণ ফান্ড থেকেও লোন নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

৪. চিকিৎসা ও চিকিৎসা ভাতা
সরকারি স্কেল অনুযায়ী মাসিক চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা প্রদান করা হয়।
গুরুতর অসুস্থতা বা অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ড বা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে চিকিৎসায় বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। তাছাড়াও বছরে ঔষধ পাওয়া যায়।

৫. আবাসন ও যাতায়াত
ক) আবাসন: নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ার্টার বা আবাসন সুবিধা প্রদান করা হয়। পেট্রোবাংলার বনানীতে কোয়ার্টার আছে। কোয়ার্টার-এ না থাকলে নির্ধারিত হারে বাড়িভাড়া ভাতা (মূল বেতনের ৪০%–৫৫%) দেওয়া হয়। নতুন বেতন স্কেল এ পরিবর্তন হবে।
খ) যাতায়াত/পরিবহন: অফিস পরিবহন সুবিধা (ড্রপ/পিক-আপ কার বা বাস) প্রদান করা হয়। এর জন্য যারা অফিসার গাড়ি ব্যবহার করে তাদের থেকে চার্জ হিসেবে সামান্য টাকা কেটে নেয়া হয়।

৬. প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার গ্রোথ
ক) প্রশিক্ষণ: দেশে ও বিদেশে কারিগরি, আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। জয়েনিং-এর পরে ২ মাস মেয়াদি বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা আছে। প্রশিক্ষণে ভালো পরিমাণে প্রশিক্ষণ ভাতা পাওয়া যায়।
খ) উচ্চশিক্ষা: সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক খরচে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষার (Masters/PhD) সুযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে এই সুযোগ কমে গিয়েছে।

৭. অবসরকালীন সুবিধাদি (Pension & Provident Fund)
পেনশন ও জিপিএফ: পেট্রোবাংলা প্রধান কার্যালয় এবং নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিতে নিজস্ব তহবিল থেকে পেনশন ও জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) সুবিধা প্রযোজ্য। পেট্রোবাংলা PF নিয়ম অনুসরণ করে, সাথে পেনশন আছে।

৮. প্রমোশন:
অফিসার ক্যাডারের ক্ষেত্রে পদোন্নতির ধাপগুলো সাধারণত নিচের ক্রম অনুসরণ করে:

১. ​সহকারী ব্যবস্থাপক (Assistant Manager / AM) –> উপ-ব্যবস্থাপক (Deputy Manager / DM) – পেট্রোবাংলায় AM হতে DM হবার জন্য বর্তমান সার্ভিস রুল অনুযায়ী ৭ বছর সময় লাগে।
২. উপ-ব্যবস্থাপক (DM) –> ব্যবস্থাপক (Manager)- বর্তমান সার্ভিস রুল অনুযায়ী DM থেকে Manager হতে ৩ বছর সময় লাগে (চাকরির মেয়াদকাল মোট ১০ বছর হতে হবে & পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে)
৩. ​ব্যবস্থাপক (Manager) –> উপ-মহাব্যবস্থাপক (Deputy General Manager / DGM)- Manager থেকে DGM হবার জন্য ৩ বছর সময় লাগে( পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে)

৪. ​উপ-মহাব্যবস্থাপক (DGM) –>মহাব্যবস্থাপক (General Manager / GM)- DGM থেকে GM হতে ৩ বছর সময় লাগে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে।
পেট্রোবাংলার প্রমোশন স্মুথ শুধু কারিগরি ক্যাডারদের জন্য। কারিগরি ক্যাডাররা স্মুথলি GM পর্যন্ত হতে পারে কিন্তু প্রশাসন ক্যাডার বা অর্থ ক্যাডারদের পদ সংখ্যা সীমিত থাকায় GM হবার সম্ভাবনা কম থাকে।
পেট্রোবাংলায় কাজের পরিবেশ ভালো। সকল সহকারী ব্যবস্থাপক রুম পেয়ে থাকে, রুম খালি থাকা সাপেক্ষে। সকল ক্যাডাররা কাজের প্রয়োজনে বাহিরে যাওয়ার জন্য টিএ/ডিএ পায় কিন্তু খুব কম বাহিরে যেতে হয়।
​(বি.দ্র. প্রতি ধাপেই নির্ধারিত শূন্য পদ এবং সরকারি প্রবিধান অনুযায়ী সর্বনিম্ন সার্ভিস পিরিয়ড থাকা বাধ্যতামূলক।)

৯. বিশেষ ভাতা সুবিধা:

এই চাকরিতে প্রতি গ্রীষ্মে পোশাকভাতা পাবেন ৩৫ হাজারের মতো বার্ষিক। আর অল্টারনেট ইয়ার্লি সিস্টেমে উইন্টারে পোশাক ভাতা পাবেন ২৫০০০ টাকার মতো। প্রতি তিন বছর পর পর এক বেসিক পরিমাণ ভাতা পাবেন শ্রান্তি বিনোদন ভাতা হিসেবে। সাথে থাকছে ১৫ দিনের ছুটি। 😁

পোস্ট কার্টেসি – M D Jabed
Assistant Manager (Finance)
Petrobangla (Petrobangla Central Recruitment 2024)