২০২৪ সালের গত নিয়োগে (১১৮ এডমিন) যারা এ/এম হয়েছিলেন তাদের একটা ভালো অংশ ৪৫-৪৬-৪৭ বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। ৫০ ভাইভা দিচ্ছে সংখ্যাটা যুক্ত হলে অংশটা আরও বড় হয়ে যায়। আমার কোম্পানি (জালালাবাদ)-এ যোগদানকৃত এ/এম এডমিনের অর্ধেকেরই একাধিকবার বিসিএস ক্যাডারে রিকমেন্ডেশন আছে। ৫০ বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল দিলে আরও কয়েকজন হয়তো সুপারিশপ্রাপ্ত হবেন।
তাহলে আপনাদের জিজ্ঞেস করি, ইমপ্লাইড এজাম্পশন কী?
ভাবেন।
১) বিসিএস প্রস্তুতিকে বলা হয় “মাদার অব অল জবস প্রিপারেশন”। যারা বিসিএস দেয় তাদের বেশিরভাগই দেখবেন সব সাবজেক্টে দক্ষতা আছে, জ্যাক অব অল ট্রেডস। সব বিষয়ে একটা এভারেজ দক্ষতা নিয়ে পেট্রোবাংলাও ক্র‍্যাক করে ফেলেছেন। এভারেজ-এর মিনিং এখানে Figurative! গড়পড়তা নয়, বরং সকল বিষয়েই সম্যক দক্ষতা নির্দেশ করছে।
২) আরেকটা অংশ আছে (আমি এই অংশের মধ্যে পড়ি) যারা ম্যাথ-ইংরেজিতে সহজাত দক্ষতা দিয়ে এগুলো ক্র‍্যাক করেছে। আমার বিসিএস প্রস্তুতি ছিলোনা। আপনারা যাকে আইবিএ বেজড প্রস্তুতি বলেন সেটাকে আমি বলি ম্যাথ ও ইংরেজির ডিপ বেসিক। আমার মতো কিছু কিছু মানুষ আছে যারা আর কিছু না পারলেও ম্যাথ-ইংরেজি দিয়ে এই চাকরি ক্র‍্যাক করেছে।
৩) একটা ক্ষুদ্র অংশ আছে বাই-ফ্লুক। আসলে এইটা বলা উচিত না। এই অংশ খুবই অল্প এবং তাই নগন্যও। এটা নিয়ে আলোচনার দরকার দেখিনা। বড়/মেগা সার্কুলারে ৫/১০% বাই ফ্লুক কেউ কেউ চান্স পায়। [আমি মাঝে মাঝে মনে করি আমিও এই অংশের অন্তর্ভুক্ত। 😐 চাকরিতে লাক একটা বড় ফ্যাক্টর বটে।]
একটা গুজব প্রচলিত। পেট্রোবাংলার সার্কুলারে আইবিএ-এর পোলাপান নেয়ার জন্য আইবিএ এক্সাম নেয়৷ ১১৮ পদে আমি ৪/৫ জন IBAites পেলাম। বরং প্রাইভেট ভার্সিটি সহ বিভিন্ন ভার্সিটির মানুষজন এ/এম হয়েছে। আপনি এক্সামে ভালো করলে আপনি চান্স পাবেনই! ভাইভার মার্ক্স অল্পই। টেম্পারিং বা প্রেজুডিস-এর সুযোগ নাই। এক্সাম ভালো না হলে “আইবিএ শুধু আইবিএ-এর ছেলেদের নেবে” বলে প্লিজ কান্না করবেন না।
বারবার বলেছি। আবারও বলি। যারা এখনও ফিগার আউট করতে পারছেন না:
ইংরেজি অংশে ক্লিফস টোফেল, ওয়ার্ড স্মার্ট, জি আর ই বিগ বুক দেখেন। ভোক্যাবে জোর দেন। রিডিং হ্যাবিট বাড়ান। রিডিং স্কিল না থাকলে যতই আইবিএ ইংরেজি কোর্স করেন না কেন-এক্সাম হলে দেখবেন পারেন না কিছুই। ভোক্যাবে জোর দেয়া মানে আসলে সেন্টেন্স মিনিং ধরতে পারার মতো পড়া। মুখস্ত না।
ম্যাথ অংশে খাইরুল ব্যাংক ম্যাথ > মেন্টরস ম্যাথ হ্যান্ড বুক > খাইরুল এডভান্স/আগারওয়াল এডভান্স এই সিকুয়েন্সে আগান। খাইরুল এডভান্স/আগারওয়াল আমি করিনি। বেসিক অংশে জোর দিতাম, ম্যাথ যেখান থেকেই আসুক-সলভ করতে পারতাম। (সত্য কথা আমি অলস। আগারওয়াল দেখে ভয় পেতাম তাই করতাম না। আপনারা পারলে করবেন। 😁)
বাকিগুলো বিসিএস প্রস্তুতিতেই কাভার হয়ে যায়।
আইবিএ জব ক্র‍্যাক করা কোনো রকেট সাইন্স না। শুধু মুখস্থ নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসেন।
১ নং প্রার্থীদের বলবো টিপিক্যাল পড়ালেখার সাথে ম্যাথ-ইংরেজিতে একটু জোর দেন আমার গাইডলাইন অনুসারে।
যারা ২ নং প্রার্থী তাদের কিছু বলার নাই। আপনারা গদাম মেধাবী। মেধার চোটে পড়তে পারেন না। আপনারা এক্সামের আগে আমার লাস্ট মোমেন্ট এডভাইজ অনুসরণ করতে পারেন। আপাতত চিল করেন। এক্সামের আপডেট দিলে একটু নড়ে চড়ে বইসেন।
৩ নং প্রার্থী যেকেউই হতে পারে, আমি-আপনি বা যে কেউ৷ এটা নিয়ে আলাদা করে বলার নাই।
নেক্সট পর্বে আরও কিছু টিপস দিবো। আজ এ পর্যন্তই। বাংলাদেশে বিসিএস আর বিবি এডির পর সবচাইতে বেশি প্রতিযোগিতা এই পেট্রোবাংলার নিয়োগেই হয়। অতএব, আমার পরামর্শ মোতাবেক পড়ালেখা করে যাওয়াটা আপনার জন্য ফরয এক প্রকার। 😁

আলোচনা করব এক্সাম প্যাটার্ন নিয়ে।
সচরাচর পেট্রোবাংলার এক্সাম আইবিএ নিয়ে থাকে বেশিরভাগ সময়। আসন্ন সার্কুলারেও তার ব্যত্যয় হবেনা। এক্সাম আইবিএ দুইভাবে নেয়:
১. হাইব্রিড প্যাটার্ন (এমসিকিউ + লিখিত)
২. টু ফেজ প্যাটার্ন (প্রিলি, লিখিত)
গতবার হাইব্রিড প্যাটার্নে এক্সাম নিয়েছিল। হাইব্রিড প্যাটার্নে:
ক। একই দিনে দেড় ঘন্টার এক্সাম হয়। সাধারণত প্রথম এক ঘন্টা প্রিলি, পরের আধা ঘন্টা লিখিত।
খ। কত নম্বরের এমসিকিউ আর কত নম্বরের লিখিত হবে এইটা সুনির্ধারিত না। তবে এমসিকিউ অংশে ৬০/৬৫/৭০/৭৫ এমন নম্বর থাকে। লিখিত অংশে ৪০/৩৫/৩০/২৫ নম্বরের হয়। গতবার ৭০-৩০ কম্বিনেশনে এক্সাম হয়েছিল।
গ। এমসিকিউ-এ প্রতিটা প্রশ্নে ১.২৫/১ করে থাকে। নেগেটিভ মার্কিংও আছে, ভুল উত্তরের জন্য গড়ে ০.২৫ কাটা যায়। প্রতিটা প্রশ্নে পাঁচটি অপশন পাবেন। ম্যাথ প্রশ্ন ইংরেজিতে হয়।
ঘ। নির্দিষ্ট সময় পর আপনার ওএমআর নিয়ে ফেলবে। তারপরই আপনি রিটেন শুরু করবেন। এমসিকিউ ও রিটেন নম্বর মিলে মেধাতালিকা বানানো হয়।
এবার আসেন সম্ভাব্য সিলেবাস নিয়ে:
এমসিকিউ অংশের জন্য
বাংলা
ইংরেজি
ম্যাথ
জিকে
আইসিটি
এনালাইটিক্যাল
(এনালাইটিক্যাল মাঝে মাঝে আসে। ব্যাংক এশিয়ার এমসিকিউ অংশে এনালাইটিক্যাল ছিলো।)
লিখিত অংশের জন্য
Essay Writing
আর্গুমেন্টেটিভ রাইটিং
ম্যাথ
শর্ট নোট
জিকে
পাজল
গতবার এসেছিল ৭০টি এমসিকিউ। ১৫টি বাংলা, ১৫টি ইংরেজি, ম্যাথ ১৫টি, জিকে+আইসিটি ২৫টি। ৩০ নম্বরের রিটেনে বাংলা ও ইংরেজিতে একটা করে দুটো এসে আর দুটো ম্যাথ ছিলো।

এবারের প্রায় একশো পদের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (প্রশাসন) নিয়োগে একটা পজিটিভ দিক হলো তিতাস আর বাখরাবাদের প্রত্যাবর্তন। এ দুটো মিলেই প্রায় ৬০ শতাংশ। পেট্রোবাংলা (মূল নিয়ন্ত্রক) কর্পোরেশনেও উল্লেখযোগ্য পদ থাকছে।
বাস্তবতায় আসেন!

ক। ভাইভায় ডাকা হবে ৬০০+ প্রার্থীকে। ভাইভার নম্বর অল্প। ভাইভা নিয়ে প্যানিকড হবার কারণ নাই, এসও ভাইভার মতই। তাহলে আপনাকে আগে টপ ৬০০ তে আসতে হবে। ৬ গুণ প্রার্থীকে ভাইভায় ডাকা হয়।
খ। টপ ১০০ জন মেরিটে জব পাবে, প্যানেল মিলিয়ে হয়তো আরও ৩০/৩৫ জন যুক্ত হবে। তাহলে ১৩৫ জনের ভিতর আসতেই হবে। প্রায় ২০০ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হবে এই ৬০০+ জনের মধ্যে। অবশিষ্ট ৪০০+ প্রার্থীদের সব পেপার ফেলে দেয়া হবে। বাস্তবতা অনেক কঠিন তাই না? আস
এ/এম এডমিনেই প্রতিযোগিতা বেশি হয়! কাজের প্রেশার হিসাব করলে এ/এম এডমিনদের কম অন্য দুটো পদের (ইঞ্জিনিয়ার এবং অর্থ) তুলনায়। যদি মনে করেন জীবনে প্যারাবিহীন শান্তির একটা জব করবেন একদম “হালাল” ভাবে, তাহলে পেট্রোবাংলার এই নিয়োগ আপনাকে সেই সুযোগ দেবে!
এ/এম এডমিন নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আগ্রহী। নিজের সেক্টর বলে অবশ্য আলাদা টান কাজ করছে। প্রথম কেন্দ্রীয় নিয়োগের একজন হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা আছে।
প্রস্তুতি নিতে হবে সার্বিক।
১। মেন্টাল প্রিপারেশন:
আগে এইটা। আপনি এই জবের যোগ্য এই মনোভাব আনতে হবে। ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক, আপনিও বুয়েট-আইবিএ গ্র‍্যাজুয়েটদের সাথে সমানে পাল্লা দিতে পারেন এই দম আপনার আসতে হবে। যেহেতু ফেয়ার নিয়োগ, বিশ্বাস করেন এক্সাম ভালো দিলে জব হবেই আপনার।
২। এনভায়রনমেন্টাল প্রিপারেশন:
চাকরির ফিল্ডে মেন্টরশিপ লাগে। ভালো স্টাডি সার্কেল লাগে৷ সাপোর্টিভ ফ্যামিলি/ফ্রেন্ডস লাগে। “তুই পারবি” কথাটা নিজের কাছের মানুষজন থেকে শোনাটা কতটা প্রভাব ফেলে আপনার হিসাবের বাইরে। টক্সিক পরিবেশে পড়ালেখা হয়না। ফেসবুকেও উল্টাপাল্টা জব গ্রুপে থাকার মানে দেখিনা।
৩। স্পিরিচুয়াল প্রিপারেশন:
এইটা খুবই ক্রুশাল। নিজের ধর্ম পালন করা মানসিক প্রশান্তি দেয়। আর মানুষের দোয়া-আশীর্বাদও অনেক ক্ষেত্রে কাজে দেয় বলে জেনে এসেছি গুরুজনদের কাছে। চাকরির বাজারে লাক কত বড় ফ্যাক্টর আমি জানি। বিশ্বাস করেন, লাক এমনি এমনি আসেনা। ভালো কাজের কর্মফল হলো ভাগ্য।
৪। স্ট্র‍্যাটেজিক প্রিপারেশন:
গরুর মতো পড়লেই হবেনা। কী বাদ দিতে হবে জানা জরুরি। স্ট্র‍্যাটেজিক প্রিপারেশন কোনো কোচিং সেন্টার আপনাকে ডেভেলপ করে দিতে পারবেনা। নিজেকেই ডেভেলপ করতে হবে। ব্রেইনবক্সে আমার দেয়া গাইডলাইনগুলো দেখে যান, আপনি প্রাথমিক ধারণা পাবেনই। ডিসেম্বর মাসে আমার একটা স্পেশাল ব্যাচ আসবে। তার আগে যাবতীয় সব জেনেরিক গাইডলাইন ফ্রিতেই গ্রুপে পাবেন।
আজ এপর্যন্তই৷ পড়া শুরু করেন না হয়।

লং টার্মে মূলত ফোকাস করতে হবে:
১. ম্যাথ [প্রিলি ২৫+ রিটেন ১০] = ৩৫!!
২. ইংরেজি [প্রিলি ১৫+ ফ্রি রাইটিং ১০] = ২৫!
শর্ট টার্মে (এক্সামের কয়েক সপ্তাহ আগে) দেখবেন:
জিকে, আইসিটি এবং বাংলা।
তাহলে লং টার্ম প্রস্তুতির দুটো বিষয়ে বলি:
ক) ম্যাথ:
খাইরুল ব্যাংক ম্যাথ এমসিকিউ > মেন্টরস ম্যাথ হ্যান্ড বুক > খাইরুল এডভান্স/আগারওয়াল কোয়ান্টিটেটিভ এপ্টিটিউড।
এই সিকোয়েন্সে আগাবেন। আরও বিস্তারিত বললে:
১. বীজগণিত অংশ কেবল ব্যাংক ম্যাথ আর মেন্টরস করলেই হবে।
২. পাটিগণিত অংশ ব্যাংক ম্যাথের পাশাপাশি আগারওয়াল/এডভান্স দেখতে পারেন।
৩. জ্যামিতি অংশে শুধু ব্যাংক ম্যাথ+বোর্ড বই।
আমি বিশ্বাস করি এতটুকুই যথেষ্ট। নিজে কাভার আপ না করতে পারলে ব্রেইনবক্সের ফেইজ-১ দেখেন রেকর্ড। আর নিজের বেসিক ভালো থাকলে (ব্যাংক ম্যাথ এমসিকিউ ভালো ভাবে শেষ করা থাকলে) ফেইজ-২ দেখতে পারেন। অন্য কোনো ম্যাথ কোর্সে ভর্তি থাকলেও হবে।
খ) ইংরেজি:
ভোক্যাব: ওয়ার্ড স্মার্ট ১,২
গ্রামার: ক্লিফস টোফেল (Pin Point Error) > কমন মিস্টেইকস ইন ইংলিশ
Sentence Completion : 501 Sentence Completion > GRE Big Book
এনালজি: GRE Big Book
এন্টোনিম: GRE Big Book
ভোক্যাবের বেস যত শক্তিশালী হবে আর রিডিং হ্যাবিট যত বাড়াবেন এক্সামে ততটাই এজ পাবেন। ডেইলি স্টার পত্রিকায় চোখ বুলাতে পারেন।
ইংরেজি অংশে কোচিং সাজেস্ট করতে পারবো না। কেননা, ভোক্যাব প্রধান ইংরেজি প্রশ্নে সেলফ স্টাডিটাই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামার পোর্শনে বাজারে প্রচলিত যেকোনো বিসিএস ইংরেজি কোর্স করা থাকলেই চলবে। বাকিটা সেল্ফ স্টাডি।
ধারাবাহিক গাইডলাইনের আওতায় আজ ৪র্থ পর্ব। আমরা আরও গাইডলাইন দিয়ে যাবো। আপনারা সে মোতাবেক পড়বেন।
ডিসেম্বর থেকে অল্প পরিসরে একটা গাইডলাইন ব্যাচ চালু হবে। শুরুতে আপনারা মেইক শিউর করেন এই দুই মাস নিজেরা পড়ে একটা সলিড লেভেল অর্জন করেছেন। গাইডলাইন ব্যাচ বলতে মেন্টরশিপ ব্যাচ। তবে, ব্যাচের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। চাইলেই এখন শুরু করতে পারতাম ব্যাচ কিন্তু পরে শুরু করলে দুটো লাভ আমার:
১. সিরিয়াস প্রার্থীদের পাবো।
২. কিছুটা প্রিপেয়ার্ড প্রার্থী পাবো।

Shivam Rathi
AM, JDTDSL (Petrobangla Central Recruitment 2024)