১৯৭৪ সাল। পেট্রোবাংলার বয়স মাত্র দুই বছর। বঙ্গোপসাগর তখন মানচিত্রে একটা ফাঁকা নীল জায়গা, কেউ জানে না নিচে কী আছে।
সরকার ছয়টি ব্লক ভাগ করে ছয়টি বিদেশি কোম্পানিকে ডেকে আনল। অ্যাশল্যান্ড, আর্কো, ইউনিয়ন অয়েল, ক্যানাডিয়ান সুপিরিয়র, জাপানের বিওডিসি, যুগোস্লাভিয়ার ইনা-নাফতাপ্লিন। ড্রিলিং রিগ এল। কূপ খোঁড়া শুরু হলো।
তিন বছর পর, ১৯৭৭ সালে, কুতুবদিয়ার কাছে ইউনিয়ন অয়েল ঘোষণা দিল, গ্যাস পাওয়া গেছে।
কিন্তু ততদিনে দেশের রাজনীতি বদলে গেছে। ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষ জনিত অস্থিরতা, বাকশাল, সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, ১৯৭৫-এর হত্যাকাণ্ড, অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান। যে দেশে কে সরকার চালাচ্ছে তা মাসে ও বছরে বদলায়, সেখানে বিলিয়ন ডলারের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
১৯৭৮ সালের মধ্যে ছয়টি কোম্পানিই ব্লক ফিরিয়ে দিয়ে চলে গেল।
সমুদ্র আবার ফাঁকা হয়ে গেল।
১৯৭৮-১৯৮৮ এক দশকের পজ।
দশ বছর পর, ১৯৮৮ সালে, সরকার আবার দরপত্র ডাকল।
কেউ আসল না। একটা কোম্পানিও আগ্রহ দেখাল না।
এবং তারপর সোনালি এক দশক, ১৯৯৩ সাল থেকে হাওয়া বদলাতে শুরু করল।
স্কটল্যান্ডের ছোট একটি কোম্পানি, কেয়ার্ন এনার্জি ১৬ নম্বর ব্লক নিল। ১৯৯৬ সালে তারা বঙ্গোপসাগরে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে পেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ও আজ পর্যন্ত একমাত্র উৎপাদনশীল অফশোর ক্ষেত্র।
সিলেটে অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম নিল ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ব্লক। তারা একের পর এক খুঁজে বের করল জালালাবাদ, মৌলভীবাজার, এবং ১৯৯৮ সালে বিবিয়ানা, প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র।
১৯৯৬-৯৭ সালে লন্ডন আর হিউস্টনে বাংলাদেশ নিয়ে সেমিনার হচ্ছে। বিশ্বের বড় তেল কোম্পানিগুলো ফাইল খুলে বসেছে। বাংলাদেশ প্রথমবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি মানচিত্রে।
তারপর একটা কালো রাত এল।
১৪ জুন ১৯৯৭, মধ্যরাত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ। মাগুরছড়ায় অক্সিডেন্টালের কূপ খোঁড়ার কাজ চলছে।
রাত প্রায় বারোটা। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের গ্রাম কেঁপে উঠল। কূপ থেকে আগুনের স্তম্ভ উঠে গেল আকাশে।
প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে ছাই হয়ে গেল। লাউয়াছড়ার সংরক্ষিত বন পুড়ল। আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলো। ২৯টি চা-বাগান, খাসিয়া পুঞ্জির পানের বরজ, বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন।
সংসদীয় কমিটি ও বন বিভাগের হিসাব: শুধু বনজ সম্পদের ক্ষতি ৯,৮৫৮ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে লেখা হলো, এই পরিবেশ পঞ্চাশ বছরেও আগের অবস্থায় ফিরবে না।
তদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্ট ভাষায় দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অবহেলাকে দায়ী করল।
তারপর যা হলো, সেটাই এই গল্পের বড় মোড়।
অক্সিডেন্টাল ক্ষতিপূরণের কোনো নিষ্পত্তি না করেই বাংলাদেশে তার সব স্বত্ব ইউনোকলের কাছে বিক্রি করে দিল। ইউনোকল পরে মিশে গেল শেভরনে। কর্পোরেট কাগজপত্রের হাতবদলে দায়টা কোথায় হারিয়ে গেল, কেউ আর খুঁজে পেল না।
উনতিরিশ বছর পর, আজও কমলগঞ্জের মানুষ প্রতি বছর ১৪ জুন মানববন্ধন করে।
দ্বিতীয় আঘাত
আট বছর পর, ২০০৫ সালে, সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় ঠিক একই ঘটনা ঘটল, এবার কানাডার নাইকো রিসোর্সেসের হাতে। জানুয়ারিতে একটি বিস্ফোরণ, তারপর ১৭ জুন আরেকটি। ক্ষেত্রটি মাসের পর মাস জ্বলল। অন্তত বিশ হাজার মানুষ ঘর ছাড়ল।
নাইকো ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করল। চাপ দিতে ফেনী ক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিল।
আর ক্ষতিপূরণের ফাইল যাঁর টেবিলে, সেই মন্ত্রীকে উপহার দিল একটি দামি গাড়ি। ঘটনাটি পরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতির মামলায় গড়াল।
এই দুই রাতের ছাই থেকেই জন্ম নিল তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি প্রথমে প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর হাতে। এখন আনু মুহাম্মদ নেতৃত্বে।
রাষ্ট্র দুটি বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারেনি, আবার পরবর্তিতে নতুন কোনও ভালো চুক্তিও করতে সক্ষম হয়নি।
একদিকে অযোগ্যতা অন্যদিকে অবিশ্বাস
তারপর এল একটা বড়ো সাফল্য।
আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে ২০১২ সালে এবং ভারতের সঙ্গে ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ জিতল। হাতে এল ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র, ২৬টি ব্লকে ভাগ করা।
পত্রিকায় শিরোনাম হলো: সমুদ্র বিজয়। দেশ বিদেশে অনেক সভা সেমিনার হল, দেশে বিজয় মিছিল।
এখন শুধু নিচের গ্যাসটা তোলা বাকি।
কিন্তু ১৪ বছর গেল, না উঠলো গ্যাস, না হল ডিপ সি ফিশিং
কনোকোফিলিপস এল ২০১১ সালে, DS-১০ ও DS-১১ ব্লকে। জরিপ করল। তারপর বলল, গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে, আর রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে। সরকারে মার্কিন বিরোধী বামদের চাপে সরকারও রাজি হলো না। রেগুলেশন, প্রতিকার কিংবা বেটার টার্মস- ভালো নেগোসিয়েশন হল না।
১৫ ডিসেম্বর ২০১৪-এ কোম্পানিটি একটি কূপও না খুঁড়ে চুক্তি শেষ করে চলে গেল।
আর তখন আবিষ্কার হলো একটা লজ্জাজনক তথ্য, চুক্তিতে লেখাই ছিল না যে কোম্পানি কাজ না করলে সরকার কী করতে পারবে। কোনো প্রতিকার ধারা নেই। তিন বছর একটা ব্লক আটকে রাখা কোম্পানির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের হাতে কিছুই ছিল না। নিছক আমাদের অযোগ্যতা। চুক্তি লিখতে না জানা।
ভারতের ওএনজিসি চুক্তি করল ২০১৪ সালে। কাজ শুরু করল ২০১৯ সালে, পাঁচ বছর পর। একটা কূপ খুঁড়ল SS-০৪ ব্লকে। গ্যাস পাওয়া গেল না।
অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস আর সিঙ্গাপুরের ক্রিসএনার্জি SS-১১ ব্লক নিল। 2D করল, 3D করল, কাগজ ভরল। একটাও কূপ খুঁড়ল না। ২০২০ সালে চলে গেল, সান্তোস তখন গোটা এশিয়া ছেড়ে দিচ্ছে।
৩ মে ২০১৮, সান্তোস তার নন-কোর এশীয় পোর্টফোলিও লন্ডন-তালিকাভুক্ত অফির এনার্জি পিএলসি-র কাছে বিক্রির ঘোষণা দেয়, বিক্রীত সম্পদের তালিকায় স্পষ্টভাবে ছিল বাংলাদেশের SS-11 PSC-তে ৪৫% অংশ। সরকারি অনুমোদনের শর্ত ছিল। চুক্তির কার্যকর তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০১৮, সম্পাদন ২০১৮-এর দ্বিতীয়ার্ধে হওয়ার কথা ছিল এবং তা প্রথাগত সম্মতি ও অনুমোদন সাপেক্ষে ছিল।
জানা গেছে অফির ড্রিলিং করার জন্য খুবই ইন্টারেষ্টেড ছিলো। গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেট্রোবাংলার নিজের স্বীকারোক্তি, পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদন মতে 3D ডেটা ব্যাখ্যার ফলাফল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সময়ে ক্ষেপণে অফির ওয়াকওভার দেয় ও ব্লক প্রত্যর্পণ করে। আরও একটা সম্ভাবনাময় ড্রিলিং থেকে দেশ বঞ্চিত হয়।
আর সবচেয়ে তেতো গল্পটি পস্কো দাইউর।
কোরিয়ান কোম্পানিটিকে ব্লক দেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই। ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০’ এর আওতায়।
আর পস্কো গ্যাস পেয়েছিল।
কিন্তু আবিষ্কারের পর তারা চুক্তির বাইরে গিয়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিল। আবারও সরকার না বলল। ডিসেম্বর ২০২০-এ কোম্পানিটি ব্লক ফিরিয়ে দিয়ে চলে গেল।
যে একমাত্র কোম্পানি গ্যাস খুঁজে পেয়েছিল, সে-ও চলে গেল।
এর মধ্যেই, অক্টোবর ২০১৩-তে, সাঙ্গুর মজুদ ফুরিয়ে গিয়ে ক্ষেত্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হলো। বাংলাদেশের সমুদ্র আবার নিঃশব্দ।
এখানেও আছে আমাদের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা। অভিযোগ আছে সক্ষমতার চেয়ে বেশি রেটে গ্যাস এক্সপ্লোর করতে গিয়ে সাঙ্গু হারিয়েছে।
এর পরে ২০১৩-২৪, এগারো বছরের নীরবতা,
আবার এক দশকের পজ!
২০১৯ সালে নতুন একটা মডেল PSC লেখা হলো। অস্ট্রেলিয়ার সাহায্য নিয়ে, পরামর্শক নিয়ে।
এগারো বছর বাংলাদেশ সমুদ্রে কোনো দরপত্র ডাকেনি। মাঝখানে কোভিড এল, সিদ্ধান্তহীনতা ছিল, এবং পেট্রোবাংলার ভাণ্ডারে ১৯৭৪ সাল থেকে জমা হওয়া সব জরিপ রিপোর্ট ফাইলবন্দি পড়ে রইল। যা কখনো বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রয়যোগ্য প্যাকেজে সাজানো হয়নি। আদৌ সেখানে এক্সপ্লোরেশন এট্রাক্ট করার মত ভালো টুডি এবং যথেষ্ঠ ত্রিডি সার্ভে ডেটা আছে কিনা জানা যায়নি।
অসমর্থিত সূত্রে জানা যায় ৫৪ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার কম-কার্যকর টুডি সিসমিক সার্ভের বিপরীতে মাত্র ৭ হাজার ১৩৭ কিলো ত্রিডি সার্ভে, যে ডেটা আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি বা আইওসি’দের জন্য মোটেই এট্রাক্টিভ না। নেগোসিয়েশন থেকে ডিলে যেতে যা যা দরকার, পেট্রোবাংলার সেরকম ডেটা ও টার্মসের সমন্বিত প্যাকেজ আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে!
আর ওদিকে, আমাদের সমুদ্রসীমা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে, রাখাইন বেসিনের শোয়ে ও মিয়া ক্ষেত্র থেকে মিয়ানমার ২০১৩ সাল থেকে গ্যাস তুলছে।
সেই ক্ষেত্রের অংশীদার কে জানেন? পস্কো।
এরপরে, ২০২৩ সালে একটা অবিশ্বাস্য চিঠি এল।
এক্সনমোবিল নিজে থেকে প্রস্তাব দিল। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে ১০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো পশ্চিমা তেল-মেজরের কাছ থেকে এত বড় অযাচিত আগ্রহ আর কখনো আসেনি।
তড়িঘড়ি প্রস্তুতি নেওয়া হলো। TGS-SLB ৭৫,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে নতুন জরিপ করল। নতুন PSC অনুমোদিত হলো, সাইনিং বোনাস নেই, রয়্যালটি নেই, মুনাফা পুরো ফেরত নেওয়া যাবে, গ্যাসের দাম ব্রেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে।
১০ মার্চ ২০২৪
অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষিত। ২৪টি ব্লক। ৫৫টি কোম্পানিকে চিঠি।
সাতটি কোম্পানি নথি কিনল, এক্সনমোবিল, শেভরন, ইনপেক্স, PTTEP, CNOOC, ক্রিসএনার্জি, ওএনজিসি। সময়সীমা বাড়ানো হলো। আবার বাড়ানো হলো। সব মিলিয়ে প্রায় চোদ্দ মাস।
একটাও দরপত্র জমা পড়ল না। শূন্য।
১৯৮৮ সালের সেই নীরবতা, ছত্রিশ বছর পরে, হুবহু ফিরে এল।
২৪ মে ২০২৬। সরকার আবার চিঠি পাঠিয়েছে।
এবার ২৬টি ব্লক। রপ্তানির অধিকার আছে, কর ছাড় আছে, শর্ত আরও নরম। ২০২৪-এ যারা মুখ ফিরিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে কারণ জেনে চুক্তি নতুন করে লেখা হয়েছে টার্মস- দাম, শুল্ক, ডেটা, শ্রমব্যয়, সার্ভে এগুলা কভার করা হয়েছে, এমনটা বলা হচ্ছে। রেজাল্ট জানা যাবে বছরের শেষে।
দরপত্র জমার শেষ দিন ৩০ নভেম্বর ২০২৬।
১৯৭৪-২০২৬ বায়ান্ন বছর ধরে এই সমুদ্র অপেক্ষা করছে। ছয় প্রজন্মের বিদেশি কোম্পানি এসেছে, জরিপ করেছে, কেউ কেউ গ্যাসও পেয়েছে এবং প্রত্যেকে উৎপাদনে যাওয়ার আগেই চলে গেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে,
সমূদ্রসীমা নিস্পত্তির ১২-১৪ বছরেও কোন সাফল্য না আসার দায় কার? একাধিক আন্তর্জাতিক দরপত্র ও ইনিশিয়েটিভের ফলাফল শূন্য কেন?
প্রশ্নটি ভালো অফার না পাওয়ার, নাকি সময়ক্ষেপণের, নাকি বেটার নেগোসিয়েশনের অযোগ্যতার! এখানে বিষয় আছে মালিকানার, খরচ ও লভ্যাংশ ভাগাভাগির ও রেগুলেশনের। প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের। নেগোসিয়েশনের দক্ষতার। আন্তর্জাতিক মানের উন্নত রেগুলেশনের জন্য অতি উন্নত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দরকার যা আমাদের নাই। আমাদের সার্ভে করার সক্ষমতা নাই। ভালো পিএসসি’র জন্য আন্তর্জাতিক মানের ট্রেড নেগোশিয়েশন দক্ষতা যা আমাদের নেই। আমরা পারি সেমিনারে গিয়ে জ্ঞান ফলিয়ে, বড়ো কথা বলে বাড়ি গিয়ে গরম ভাত খেয়ে ঘুম দিতে।
এখানো আন্দোলন হয়, কিন্তু একটা ভালো নেগোসিয়েশন, ভালো চুক্তি করার যোগ্যতা হয় না আমাদের। আমরা চুক্তিতে বেটার টার্মস রাখতে পারি না, শেয়ারিং, বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আন্দোলনের হুমকি আসে। আমরা সঠিক সময়ে দাম নির্ধারণ করতে পারি না। পারি না জয়েন্ট ভেঞ্চার করতে কিংবা প্রযুক্তিগত সেবা কিনতে বা ভাড়া হিসেবে আনতে। এবং পারি না ক্ষতিপূরণ আদায়ের নেগসিয়েশন করতে। চুক্তি লিখতে পারি না। এমন চুক্তি এমন, যেখানে প্রতিকারের ধারা থাকে না, এক্সিট প্ল্যান থাকে না। এমন দরপত্র করি, যা পছন্দের কোম্পানি না জিতলে বাতিল হয়ে যায়।
অর্থাৎ সঠিক সময়ে কাজ করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। পাশাপাশি ব্লকে আমাদের প্রতিবেশীরা গ্যাস তুলেছে, আর আমরা অন্ধকারে যাই ঘন ঘন। এখনও সময়ে সময়ে জ্বালনীর অভাবে আমাদের প্রায় সব শিল্প একযোগে বন্ধ হয়ে যায়।
ভূতত্ত্ব কখনো বাধা ছিল না। সমুদ্রটা আমাদের আছে। প্রশ্ন হলো, আমরা তৈরি হয়েছি কি না!
Writer: ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ


