বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল), বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান যেটি দেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ২৫-৩০% গ্যাস উৎপাদন করে থাকে। হেড অফিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার বিরাসারে অবস্হিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্বে, ঢাকা-কুমিল্লা-সিলেট হাইওয়ের পাশেই অবস্থিত। বর্তমানে বিজিএফসিএল এর আওতায় ০৬ (ছয়)টি গ্যাস ফিল্ড যথা- তিতাস (বি.বাড়িয়া), হবিগঞ্জ (মাধবপুর), বাখরাবাদ (মুরাদনগর, কুমিল্লা), নরসিংদী (শিবপুর), মেঘনা (বাঞ্ছারামপুর, বি.বাড়িয়া) ও কামতা (ঢাকা পূর্বাচল) এ অবস্হিত। এ ০৬ (ছয়)টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ০৫ (পাঁচ)টি অর্থাৎ তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র বর্তমানে উৎপাদনে আছে।

পদায়ন:
এডমিন এবং অর্থের বেশিরভাগের ইনিশিয়াল পোস্টিং হেড অফিসে হবে এবং অল্পসংখ্যক বাখরাবাদ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, মেঘনা ফিল্ডে হতে পারে। অফিস সকাল ৮ টায় শুরু হয়। এডমিনের কারো কারো ফিল্ড সিকিউরিটিতে পদায়ন হতে পারে সেক্ষেত্রে রোস্টার ডিউটি করা লাগতে পারে। টেকনিক্যাল ক্যাডারদের খুবই অল্পসংখ্যক হেডঅফিসে এবং বাকিদের বিভিন্ন ফিল্ড ও প্রকল্পে পোস্টিং হয়।

ভাতাদি:
লাঞ্চ ভাতা : প্রতি কর্মদিবসের জন্য ৬০ টাকা।
গ্যাস ভাতা : ২০৩৮.৮১ টাকা প্রতি মাস।

এক্স গ্রেশিয়া : কূপ/খনন/প্রকল্প সফল হওয়া সাপেক্ষে ১ টা বেসিকের সমান এক্স গ্রেশিয়া পেয়ে থাকে ।
ইন্সেন্টিভ: প্রায় প্রতিবছর প্রায় ১.৫-২ বেসিক সমান ইনসেন্টিভ বোনাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রফিট শেয়ারিং : প্রফিট বাকি কোম্পানির তুলনায় অনেক কম, গতবছর ৭০ হাজারের মত পেয়েছে। উৎপাদন কমতে থাকায় অদূর ভবিষ্যতে কোম্পানি লসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
হোম লোন/হাউজ লোন এবং কার লোন : চাকরিকাল অন্তত ৫ বছর হওয়ার পর হোমলোনের জন্য আবেদন করা যায়। সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত হোম লোন পাওয়ার সুযোগ আছে। আগে কার লোন সুবিধা থাকলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
মেডিক্যাল সুবিধা: সাধারণ সরকারি চাকরির মতো চিকিৎসা ভাতা নেই। স্থায়ী কর্মকর্তাদের স্পাউজ ও সন্তান কোম্পানির ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা গ্রহণ করে চিকিৎসা বাবদ খরচ রিফান্ড পেয়ে থাকেন।
কোয়ার্টার সুবিধা : বিজিএফসিএল-এর হেডঅফিস ও ফিল্ডসমূহে কোয়ার্টার সুবিধা রয়েছে। হেড অফিসে ডরমিটরি আছে তবে সেখানে ম্যানেজার-ডিজিএম লেভেলের সিনিয়র স্যাররা থাকেন। অন্যান্য অফিসাররা সাধারণত হেডঅফিস এবং শহরের আশেপাশে থাকেন।
ট্রান্সপোর্ট সুবিধা: কর্মকর্তাদের জন্য হেড অফিস টু কোয়ার্টার গাড়ির লিফটিং সুবিধা রয়েছে।
পেনশন : বিজিএফসিএল-এ পেনশন আছে।
প্রমোশন : এডমিন, অর্থ ও প্রকৌশল ক্যাডারে প্রমোশন ম্যানেজার (গ্রেড-৫) পর্যন্ত যথাসময়ে ও স্মুথলি পাচ্ছে। এসিস্ট্যান্ট অফিসার টু এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হতে ৩ বছর লাগতে পারে। এএম ডিএম লেভেলে অনেক প্রমোটি অফিসার আছেন। অদূর ভবিষ্যতে তারা অবসরে যাবেন।
ম্যানেজার>ডিজিএম>জিএম প্রমোশনে জটিলতা দেখা দিতে পারে। নতুন অর্গানোগ্রামে টেক-এর আরো ডিপার্টমেন্ট বৃদ্ধি পাবে। পদসংখ্যাও বাড়বে।
পোশাক ভাতা : শুরুর বছরে শীত-গ্রীষ্ম দুই সিজনের পোশাক ভাতা একসাথে মিলে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাবেন। এরপর প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন ভাতা ৩৫ হাজার টাকা আর এক বছর পরপর শীতকালীন ভাতা ২৫ হাজার টাকার মতো পাওয়া যাবে।
LFA : প্রতিবছরে সর্বনিম্ন ৭ দিন ছুটিসহ শ্রান্তি-বিনোদনভাতা প্রদান করা হয়।
অন্যান্য সুবিধা : হেড অফিস সংলগ্ন কোম্পানির আওতাধীন স্কুল এন্ড কলেজ এবং খেলার মাঠ রয়েছে। প্রতিবছরই আন্তঃফিল্ড বিভিন্ন ইনডোর আউটডোর টূর্ণামেন্ট আয়োজন করা হয়। কোম্পানির কাজের পরিবেশ অনেক ভালো এবং সিনিয়ররা যথেষ্ট আন্তরিক।
অসুবিধা : নাগরিক সুবিধা কম এবং জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক বেশি। প্রকৌশল ক্যাডারদের বেশিরভাগই রোস্টার ডিউটি এবং বিভিন্ন প্রকল্প ও কূপ খনন কাজে ব্যস্ত সময় পার করা লাগে। অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মতো ফিল্ড এলাউন্স নেই।
পোস্ট কার্টেসি: বিজিএফসিএলে কর্মরত একজন এ/এম।

বিশেষ কার্টেসি: তৌকির আহমেদ, সুপারিশপ্রাপ্ত AM- BGFCL
46 BCS (Admin), 47 BCS (Foreign)

Shivam Rathi